দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেছেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে (২৮) হত্যা করা হয়েছে পূর্ব শত্রুতা ও আর্থিক লেনদেনের জেরে। এই দুই কারণে পরিচিতরাই তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
এই ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তারা হলেন- আকতার হোসেন (৪৫), মো. মুন্না (২৪), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)। তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটরসাইকেল।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড হওয়ার পর আমরা প্রথমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি। প্রথমে আমরা মোহাম্মদপুর ও আশাপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে আমরা এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ ৪ জনকে আটক করি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তার হওয়া আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামি করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলার আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে। এছাড়া আকতার ও আসাদুলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিরোধও রয়েছে। এই দুটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাত এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বাইরেও আমরা আরও কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে অভিযান অব্যহত রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতে চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়াদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদন করবো।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামি এবং নিহত ব্যক্তির নামে একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তার হওয়া মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে আমরা এখনো কোনো মামলা পাইনি।
মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন জানতে চাইলে ডিসি বলেন, তেজগাঁও ডিভিশনের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা বড়। এখানে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনায় দেখা গেছে বাইরে থেকে কিছু সন্ত্রাসী এসে অপরাধ করে আবার চলে গেছে এবং অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এজন্যই আমরা ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছি। আমরা চেকপোস্ট জোরদার করব এবং চলমান অভিযান আরও শক্তিশালী করব, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ অপরাধ করতে না পারে এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
গ্রেপ্তার হওয়াদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আকতারের রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছি। সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করছি। এর আগে ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রাস্তায় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার কালনা এলাকার জলিল সর্দারের ছেলে। পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
এই ঘটনায় পুলিশের বাইরে র্যাব-২ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, আসাদুল ইসলাম ও মো. শাওন। তাদের মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
কে